কবিরা মুটে বহন করে না, তারা কবিতা বহন করে-এটা ধরে নেওয়া সত্য। সাধারণ জনতা অনেক কিছু ধরে নেয়। বাদ দিন।

আমি একটা কবিতা বহন করে ঘরে ঢুকেছি আজ। তার মানে আমি কবি। কাল যদি মুটে বহন করি, আমি কুলি হয়ে যাব, কবি থাকব না। সেটা ব্যাপার না। একটা কিছু হলেই সই।

জানি মানুষজন আমার সাথে কষে ষড়যন্ত্র করে। না হলে সাতজন মানুষ এই মহা গুরুত্বপূর্ণ সতের মিনিটে আমাকে এগারো বার ফোন-কল করবে কেন? তবে আমি অবশ্য সকল ষড়যন্ত্রে হাগু ঢেলে দিয়েছি। তারা আমাকে নিঃস্ব করতে চেয়েছে, তারা আমাকে ধ্বনিহীন করতে চেয়েছে তারা ভারমুক্ত করতে চেয়েছে আমাকে অথচ আমি ভারমুক্ত হতে চাইনি বরং এই কথার বোঝাকে ভালোবেসেছি আমি। তাই আমি ওদের কারো সাথে এক বর্ণও কথা বলিনি। শুধু আমার বয়ে বেড়ানো কথাগুলোর সাথে কথা বলেছি। কথাগুলো খুব সম্ভব প্রেমের অথবা ক্রোধের অথবা ঘৃণার অথবা হিংসার অথবা দুঃখের। ঘাবড়াবেন না, একটু গভীরভাব চিন্তা করলে বুঝবেন এগুলো খুব সম্ভব একই তারে বাঁধা।

কথাগুলো বলতে চাই কিন্তু আমি আমার পেনসিল দিয়ে মিথ্যা বলা শিখিনি এখনও কিন্তু শালার কবিদের সত্যটাকে সত্যের মতো করে বলতে নেই তাই আমিও মিথ্যা করে বলব। যেহেতু আমি একটি কবিতা বহন করছি। আশা করি অপরাধ নেবেন না:

তুই যখন লজ্জা পেতে থাকিস

আমার তখন গা জ্বলে যায়।

তুই যখন মেয়ে হতে থাকিস

আমার তখন পিত্তি জ্বলে যায়

তুই কি জানিস, পাহাড়গুলো আটকে থাকে

আর মেঘগুলো হেঁটে যায়?

জানিস, এতে পাহাড়ের পিত্তি জ্বলে যায়?

মেঘগুলো ফেটে বৃষ্টি পড়তে থাকে

ফসলেরা সবুজ হয় আর সবুজ হয়

আর এতে মেঘগুলোর গায়ে আগুন ধরে যায়, জানিস?

আমরা ভুলে যাই মাটি বলে কেউ ছিল;

বৃষ্টিগুলোর আগে সে চৌচির হয়ে ছিল, তাও ভুলে যাই

আমরা ভুলে যাই চৌচির মানে ব্যথা;

বৃষ্টি এলে ফসলের দেহে ভোর আসে, এটা মনে থাকে,

আর যে ছিল চৌচির

তার সমস্ত শরীরে আগুন আর আগুন যে আগুন আমরা ভুলে যাই!

আমার ধারণা-ধারণা কেন, দৃঢ় বিশ্বাস-আপনারা আগা-মাথা কিছুই বোঝেননি! কারণ আমি বোঝাতে চাইনি, লুকাতেই চেয়েছি।

আমি খুব মুনশিয়ানার সাথে সত্যটা লুকিয়েছি। সত্যটা জানলে আপনারা আমাকে নগ্ন হয়ে যেতে দেখতেন। আমি সেটা হতে দিতে পারি না। ভাবছেন খুব বাহাদুরি দেখালাম? তা একটু। মানুষের লজ্জাবোধ তাদের কবিতা লিখতে শিখিয়েছে।

কিন্তু লিখতে-লিখতে বুঝলাম আমি আর একটু নগ্ন হতে চাই কিন্তু পুরোটা না। তাই আমি একটা গল্প লিখতে শুরু করছি। অথবা একে আপনারা একটি ছোট চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট বলতে পারেন। আমি আগে কখনো প্রেমের গল্প লিখিনি। ব্যাপারটি আমার আসে না। যাই লিখি ইয়ে, মানে, রূঢ় হয়ে যায়— আমার এক বন্ধু আমাকে সেটা মনে করিয়ে দেয় বারবার। এবার খুব সম্ভব আমি একটি মিষ্টি সামাজিক প্রেমের গল্প লিখতে যাচ্ছি যেটি দিয়ে যদি আমাদের ভবিষ্যৎ ফিল্ম মেইকার পামেল একটি ফিল্ম বানিয়ে ফেলে, তবে তাকে ‘সামাজিক একশনধর্মী ফিল্ম’ বলা যেতেও পারবে যেটি কিনা পরিবারের সকলে মিলে একসাথে বসে দেখা যাবে, কাউকে লজ্জায় জিভ কাটতে হবে না! কথা দিচ্ছি। এখানে যা কিছু সব লুকিয়ে চুরিয়ে হবে।

প্রথমে আমি আমার চরিত্রদের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই:

দ-১ স-৩

স-২ আ-১

প-১ ত-১

স-১ শ-১

প-২ জ-১

এখানে বলে রাখি

শ-১ হচ্ছে শিশু চরিত্র যার যৌন-অর্থে প্রেম বিষয়ে কোনো ধারণা এখনও জন্মেনি। সে থাকবে সবার কোলে-কোলে। তার পা ব্যথা—সারাদিন সে ভাইয়া এবং আপুদের সাথে শিশুপার্কে অনেক দৌড়েছে। সে হচ্ছে কবি ব্লেইকের ভাষায় ‘সঙস অফ ইনোসেনস’। অন্যদিকে ভাইয়া এবং আপুরা হচ্ছে ‘সঙস অফ একপেরিএন্স’ যাহা হইতেছে বড়ই ডেইঞ্জারাস। বড়ই জটিল।

তার ওপর কোকিলের নিজস্ব সম্পত্তি বলিয়া খ্যাত যে বসন্ত ঋতু তাহার প্রভাবে এই ডেইঞ্জার লেভেল বহুত বেড়ে যায়। তখন শূন্য আকাশে, দখিনা বাতাসে অনেক হাহাকার ধ্বনিত হয় যার অধিকাংশই যৌন-হতাশা-তাড়িত বলে আমরা গবেষণা করে জেনে ফেলেছি!

জ-১ ঘটনাকালে নিশ্চুপ চরিত্র হিসেবে থাকবে। অথবা বলা যেতে পারে পরিচালক তার নিশ্চুপতা নিশ্চিত করবেন কারণ এতে অন্য সব সরব এবং বাচাল চরিত্রদের সাথে একটি কন্ট্রাস্ট তৈরি করা যায়। ভেরি টেকনিকাল। এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে পামেলের সাথে যোগাযোগ করুন। তার ফোন নম্বর : +৮৮০১৬৭৯২৮৫৪...

আ-১ অন্যদিকে ঘটনার স্থানে শারীরিকভাবে অনুপস্থিত চরিত্র কিন্তু সে তারপরও আছে ত-১ এর ভিতরে এবং স-৩ এর ভিতরে। ত-১ এর ভিতরে সে প্রেম, স-৩ এর ভিতরে সে ঘৃণা।

বাহ! কী চমৎকার! আমি ইচ্ছা করে ব্যাপারটা গুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি যাতে আপনারা কম বুঝতে পারেন কিন্তু তবু আপনারা খেই হারাবেন না বলে আশা করছি প্রিয় বুদ্ধিমান দর্শক; খেই হারানোর মতো এখনও তেমন কিছুই বলা হয়নি, তবে হবে।

কথা হচ্ছে, মহান এরিস্টটল সাহেবকে আমাদের একটাই কথা বলার আছে : ‘ভাই আপনি মারা খান। আপনার ইউনিটি অফ টাইম, প্লেইস, একশন আমরা মানতে পারি না এই যুগে। দেখেন আমরা মডার্ন ফডার্ন ক্রস করে পোস্ট মডার্নকে ফালা-ফালা করে কোথায় যে যাইত্যাছি জানি না। ফিসিকাল টাইম থেকে সাইকোলজিক্যাল টাইম এমনকি সাইকেডেলিক টাইমে ঢুকে গেছি আমরা যেখানে বিভিন্ন রঙের, আকারের, বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন সময়-চেতনা ও বাস্তবতা চলে আসে, বুঝলেন কিনা? যাই হোক, মৃত মানুষকে জ্ঞান দিয়ে লাভ নেই। আগে বারি…’

ফিজিকাল স্থান, ধরি সাবেক কন্টিনেন্টাল, সাবেক শেরাটন, প্রাক্তন রূপসী বাংলা, বর্তমানে আবার কন্টিনেন্টাল মোড়। কাল বসন্ত— যে ঋতুতে মরার কোকিলেরা আন্দাজে গান তুলে আমাদের ঘুমও ভাঙায়, উদাসও করে দেয়, যাঃ! সময় সন্ধ্যা। ব্যস্ত ট্রাফিক, ভয়ানক ব্যস্ত। এর মধ্যে আমাদের চরিত্ররা, মানে উপস্থিত চরিত্ররা রাস্তা পার হচ্ছে। একটু দাঁড়ান, এইমাত্র আমাদের মনে এল দ-১ ও একটি অনুপস্থিত চরিত্র যার অবস্থান স-১ এর হৃদয়ে ভালোবাসার ও শ্রদ্ধার। তার মানে হলো স-১, দ-১ কে ভালোবাসে কিন্তু এমনটা কোথাও লেখা নেই যে স-১ ক, খ, গ, ঘ ও ঙ কিংবা চ, ছ, জ, ঝ, ঞ এরকম আর কাউকেই ভালোবাসতে পারবে না আর একই নিয়মে দ-১ ও ট, ঠ, ড, ঢ, ণ কিংবা ত, থ, দ, ধ, ন-কে ভালোবাসতে পারবে না।

এই রকম মনের মধ্যে একে-ওকে বহন করে রাস্তা পার হলে বাস্তবের ঢাকা শহরে আপনাকে আস্ত পাওয়া যাবে না কিন্তু এটা গল্প কিংবা সিনেমা-লেখক এবং ডিরেক্টরকে না বলে কোনো, ডেইলি স্টারের ভাষায়, ‘রেকলেস’ বাস তার গল্পের বা সিনেমার চরিত্রকে ভর্তা কিংবা কিমা বানাতে পারবে না। তাই আমাদের চরিত্ররা নির্বিঘ্নে ভাবতে-ভাবতে কিংবা কথা বলতে রাস্তা পার হচ্ছে।

আসুন আমরা আমাদের ক্যামেরাটা একটু ফোকাস করি: দেখি কে কার সাথে আছে। স-৩ এবং ত-১ একসাথে আছে, কথা বলছে না, তারা নাকি পরস্পরকে ঘৃণা করে! এটা অবশ্যই আয়রনি অফ সিচুয়েশন! আমাদের যেহেতু সবজান্তা আখ্যানকারী হতে আপত্তি নেই তাই আমরা জানি স-৩ পাগোল-ছাগলের মতো ভালোবাসে ত-১ কে, অথবা বলা ভালো: ‘ভালোবাসতো’ । ত-১ সেই মহান আবেগকে গ্রহণ না করে বা না করতে পেরে ন-২’র [ত-১ এর বান্ধবী] ভাষায় ‘পায়ে ঠেলে’ ঘ্যাচাং করে বরং পাল্টি মানে প্রেম খেয়ে গেল আ-১ এর উপর।

এজন্য সামাজিক অবস্থাকোণ থেকে বিচার করলে আমরা দেখতে পাবো এই, স-৩ যে আ-১কে হিংসা বা ঘৃণা করে এটা স্বাভাবিক নয়। বরং অস্বাভাবিক এটি যখন আমরা জানতে পারি ত-১ যে স-৩কে ভালোবাসে না বলে ঘোষণা করে এবং স-৩কে যে তার প্রায়ই অসহ্য লাগে বলে দাবি করে ইহাও সঠিক নহে। ত-১ বরং তারিয়ে-তারিয়ে উপভোগ করে স-৩ এর যন্ত্রণাদগ্ধ বাস্তবতা। খুবই নিষ্ঠুর। নিরপেক্ষ আখ্যানকারী হলেও আমরাও মানুষ, তাই আমরা ত-১কে ত্বরিত একটা অভিশাপ দিয়ে ফেলি! প্রকৃতি তাকে শাস্তি দিবেন, আমিন!

স-২ এর মুখ ভার। স-২ প-১কে তুঙ্গ পর্যায়ের ভালোবাসে বলে ক্লেইম করে। প-১ তাকে নাকি প্রচুর প্ররোচনা দিয়েছে একসময়। ওদিকে প-১ এর ভাষায় সে স-২কে নিখাঁদ বন্ধু হিসেবে দেখতে চায়। স-২ তাই অলটাইম প্যারার ওপর থাকে! প-২ এর কোলে শিশু শ-১। শ-১ এর পা ব্যথা আমরা আগেই বলেছি। জ-১ নিস্পৃহ চরিত্র।

প-১ আর স-১ কী যেন বেশ বলছে হাসতে হাসতে। তাদের হাসি দেখতে সুন্দর। দেখে ধাঁধাঁ লাগে-তারা বোধহয় ‘সঙস অফ ইনোসেন্স’ খেলছে! কিন্তু তা কী কইরে হয়! সামথিং ফিশি গোয়িং অন...

আমাদের একটু ইতিহাস জানা দরকার। বেশি আগের না, দুই দিন আগের। লাল-মেরুন টাইপের ক্যাটক্যাটা, ড্রেস পরে এবং চশমার বদলে চোখে অতিরিক্ত গাঢ় কাজল দিয়ে এসে চোখ প্রয়োজনের বেশি বড়-বড় করে নাচিয়ে, দন্ত বিকশিত করে মানে দাঁত কেলিয়ে প-১ সেদিন স-১ কাছে এসে বলল, আমি আপনাকে বিরাট একটা সিক্রেট বলতে চাই, আপনাকে না বললে মারাই যাব। স-১ এর মন খারাপ ছিল বিশ্রি টাইপের—সেই পুরনো রোগ—নিজেকে নিজে প্রশ্ন করা এবং নিজের অসংগতি খুঁজে বের করে মেলানকলিয়া যাপন করা।

স-১ বলল, না বললে কি চলবে না?

না, চলবে না। পেটের ভাত হজম হবে না, আপনাকে সব বলতে হবে।

জানেন কি, আমি নতুন প্রেমে পরিয়াছি

যা-তা টাইপের প্রেম

স-১ বলল, দেখে বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু আ-২ এর কী হলো?

প-১ বলল, সে মারা খাক! তিন বছর ধরে তো মেস্ড আপ! আর কতো? আপনি জানেন কে এবার?

স-১ ত-২, ম-১ এমনকি স-২ এর কথা ভেবে ফেলল। কিন্তু না। প-১ বলল প-২ এর কথা! স্ট্রেইঞ্জ! বলে সে লজ্জা-টজ্জা পেয়ে একদম সিনেমা বানিয়ে ফেলল। স-১ প-১ এর মুখে এই লজ্জা দেখতে চায় না, এই অযথা লজ্জা প-১ কে মানায় না, এটা তাকে অযথাই মেয়ে বানিয়ে দ্যায়। স-১ একজন সেইরকম টাইপের ফেমিনিস্ট— থিওরী না কপচিয়ে কথাই বলে না! মাগো-মা!

প-১ এর এই দাপাদাপি সত্যি কিনা স-১ বুঝতে পারে না। সে ব্যথা বোধ করে। ব্যথার প্রকৃতি সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল হলেও আমরা এখনই সেটা ফাটাবো না।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এইটা আমার দ্বিতীয় প্রেম-পতন। প্রথম পতন কার ওপর জানেন? আপনার ওপর! প-১ বলে দাঁত বের করে। খুব সম্ভব তার হাসি সুন্দর: সঙস অফ ইনোসেন্স কিনা জানি না, সঙস অফ ননসেন্সও হতে পারে!

স-১ এর মুখে দুই স্তরের কষ্টবোধ ব্যবস্থা ভেদ করে একখানা আধা খ্যাচড়া ধ্যাবড়া টাইপের হাসি বেরোয়। ইহা আমাদের কাছে গর্বের হাসি বলিয়া বোধ হয়।

প-১ আরও বলে, আমি জানতাম না আপনার মতো মানুষ হয়! আমার মনে হয়েছিলো ‘ও মাই ডগ’! কিন্তু আমি জানতাম আপনি কে বা কী-

নিজের সম্পক্কে এইসব সুইট-সুইট কথা শুনতে কার না ইয়ে হয় কিন্তু পৃথিবীতে লজ্জা এবং ভদ্রতা বলে এখনও কিছু একটা আছে বলে স-১ প্রসঙ্গ পাল্টায় বলে, বেশ, ভালো কথা, এখন কী করা? সে জানে সে কী কেন, কে, অতএব... দ-১ তার মনের ভিতরে...

কিছু না, চাইপা যান। আপনাকে বলার দরকার ছিল বললাম। তারপর প-১ আবারো অযথাই দাপাদাপি করে। একটু পরে জানতে চায় স-১ এর মন খারাপ কেন? ইত্যাদি...

এর মধ্যে আরো দুইদিন গেছে। নদীদের অনেক ঘোলা জল সমুদ্রের নোনা জলের সাথে সংগম করেছে। স-১ ওদিকে প-১ এর সাথে বিট্রয় করে প-২কে সব বলে দিয়েছে। আবার প-১কেও বলে দিয়েছে যে সে প-২কে বলে দিয়েছে। এর নাম সে দিয়েছে ‘বিষ থেরাপী’। বিষে বিষক্ষয়। প-২কে সে ব্যাপারটা স্বাভাবিকভাবে নিতে অনুরোধ করে। প-২ আত্মগর্বের ঠেলায় বলে ফেলে, তার জীবনে এটা নতুন নয়, কত মেয়ে...ইত্যাদি। স-১ এর অস্বস্তি লাগে। স-১ এরপর প-১কে বোঝায়-[ওরে আমার বোঝানেওয়ালারে!]

এর মধ্যে কোনো পাপতো নেই। ভালোবাসাইতো। এন্ড দিস ইজ ইউর বেস্ট চয়েস সো ফার!

চোখ মেরে প-১ উত্তর দেয়, বেটার চয়েস দ্যান ইউ?

স-১ এর পাল্টা জবাব, আমি চয়েসের ঊর্ধ্বে, বৎস! ওদিকে প-২ এর মন উদ্বেল হলেও আমরা প্রচুর উদ্বেগ লক্ষ করি-আমরা সেগুলো জানি কিন্তু তা বলতে গেলে আমাদের গল্প বে-লাইনে চলে যাবে বিধায় বলছি না, মাফ করবেন!

আবার আমরা হেটেল কন্টিনেন্টাল মোড়ে ফিরি। প-২ বিজ্ঞের মতো আচরণ করে। স-২, স-৩, ত-১, ও জ-১ কে সে কিছুই বুঝতে দেয় না। তার আচরণ স্বাভাবিক এই রূপসী বাংলার মোড়ে। তার কোলে তখন শিশু শ-১।

স-২ এর প্যারা উত্তুঙ্গ পর্যায়ে। প-১ কেন স-১ সাথে এভাবে হাসিয়া হাসিয়া ফাটিয়া পড়িতেছে? ইহা তাহার সহ্য হয় না। ওথেলো সিনড্রোমে আক্রান্ত হয় সে। সে ভাবে এটা খুবই অসামাজিক।

প-১ স-১কে হাসতে হাসতে বলে, জানেন স-২ এখন কী ভাবছে? ভাবছে আমি আপনার প্রেমে পড়েছি। স-১ ভাবে সেটা হলে কার বাবার কী এবং বলে, পড়েছিলে তো! ‘ড়’-এর ওপর বেশি জোর দিয়ে প-১ বলে, পড়েছিলাম তো। পাস্ট টেন্স। কিন্তু আমি জানি আপনি কে, কী কেন ইত্যাদি অতএব আমি এখন সেকেন্ড বেস্ট চয়েসে আছি, হি! হি!

স-১ বিশ্বাস করে প-১ এখন প-২ এর প্রেমে হাবুডুবু। শিশু কোলে প-২ও তাই বিশ্বাস করছে। সে বিশ্বাস করে স-১ তার অর্থাৎ প-২ এবং প-১ এর সম্ভাব্য প্রেম বিষয়ে সাহায্য করতে আজ এখানে ওদের সাথে। ত-১ যথারীতি ভাবছে আ-১ এর কথা আর পাশে হাঁটা স-৩ এর বিক্ষুব্ধ মনের আঁচে তার হৃদয়ে উত্তাপ।

আমরা যেহেতু চাইলে আরেকবার সবজান্তা আখ্যানকারী হতে পারি, তাই আমরা দেখে নিতে চাই প-১ এর ভিতরটা। স-১ এর জন্য তার প্রেমটা কমে তো যায়ইনি, বেড়েছে কিন্তু তার এটি আড়াল করা দরকার। কেন দরকার জিজ্ঞেস করবেন না প্লিজ। সে বহুত প্যাঁচালের মামলা। স-২ এর মতো আপনিও জেনে রাখুন এটা অসামাজিক। স-১ জানে সে আজ এখানে এসেছে প-১ আর প-২ এর মধ্যের উত্তাপ বাড়াতে তাহলে হয়তো প-১ কে এই পরিচিত ধ্বনিমালার মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যাবে, সে হারিয়ে যাবে না অন্য কোনো ধ্বনি বা বর্ণের হয়ে। [কেমন একটা বর্ণমালাভিত্তিক মেটাফোর মেরে দিলুম দেখেন! শুনতে ননসেন্সিকাল লাগলেও ক্যারিশমা আছে, কী বলেন?]

জাতির কাছে প্রশ্ন, তাহলে প-১ কেন বলছে সে প-২ এর প্রেমে পড়েছে?

প-২কে প-১ এর দরকার একটি বর্ম বা ঢাল হিসেবে যাতে স-১ কোনোভাবেই তার গোপন কথা জানতে না পারে: ভালো তামাশা বটে! তাই প-১ স-১ এর সাথে সঙস অফ ইনেসেন্সের খেলা খেলছে। স-১ও সঙস অফ ইনোসেন্স খেলছে না তা কে বলবে? সে জানে সে দ-১কে ভালোবাসে, তবু কি প বর্গেও বা বর্ণের, কিংবা ত বর্গের বা বর্ণের, অথবা ত বর্গের বা বর্ণের বা অন্য যে কোনো বর্গের বা বর্ণের কাউকে ভালোবাসলে সেটি ‘অসামাজিক’ হবে? মানব সমাজে এমনটাই হয়।

এদের মধ্যে শুধু জ-১ নিস্পৃহ আছে। এত কিছুর মধ্যে কীভাবে সে নিস্পৃহ আছে এখন পর্যন্ত আমরা সেটা বের করতে পারিনি।

যে আমি কবিতা বহন করে ঘরে ফিরে মুটে না হয়ে কবি বনে গিয়েছিলাম, সেই আমি যদি বাই চান্স স-১ বলে প্রমাণিত হয়ে যাই, তবে আমার বাকি গল্পটুকু প্রেমের-যে প্রেম মানব-বাস্তবতা একদমই বুঝতে পারে না। আমার সব গান যে আমি নিজেই জানি না...