বি+বা+হ


বিবাহিত মানুষের সঙ্গেও নিশ্চয়তা থাকে না। আমার কাকা প্রথম-বউয়ের সঙ্গে কেন সংসার করল না? মেয়েটা কালো বলে? সে দফায় কাকার ৩০/৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। পরের বার সুন্দরী বউ। আমাদের সবার পছন্দ হয় বলে কাকারও পছন্দ হয়। কাকা দ্বিতীয় বিয়ে করে। আহ, কাকির সে কী রূপ! কাকি স্বামীর বাড়িতে এসে দেখে, তার সাবেক প্রেমিক আমার কাকার ভাইপো। কাকি আর কাকার বাড়িতে আসতে চায় না। দোষ পড়ে কাকার পৌরুষে। কাকার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় দ্বিতীয় কাকির। ভেবেছিলাম কাকা আর ঘর-সংসার করবে না। আমাদেরকে সন্তান ভেবে জীবন কাটিয়ে দেবে। ফুফুরা ছোট কাকার জন্য পাত্রী দেখা শুরু করে। এর মধ্যে কাকা ঘোষণা দেয়, সে আবার বিয়ে করবে। এবারও কাকার বউ সুন্দরী, সঙ্গে চাকুরিজীবী। যাক, উনার একটা গতি হয়েছে। আমার কাকা তেমন শক্তিশালী চাকরি করত না। তার বউভাগ্য মোগল বাদশাহর মতো। কে জানে, হয়তো তারই মোগল বাদশাহ হওয়ার কথা ছিল। চাকরিজীবী বউয়ের সঙ্গে তার ভালোই চলছিল। এর মধ্যে কাকি সন্তানসম্ভবা। নতুন কাকি চাকরি ছেড়ে দেয়। একদিন কাকির প্রচণ্ড ব্যথার পর কাকা কন্যা সন্তানের বাবা হন। কাকার খুব মন খারাপ। তার মুখের দিকে কিছুতেই তাকানো যাচ্ছে না।



বউদি আর হুম মাছ


বিকেলে গোমতীতে লাফিয়ে উঠে যে মাছ তার নাম হুম। কেউ কেউ তাকে শুশুকও বলে। মাছটা ডলফিন প্রজাতির। গোমতীর আইলে বাতাসের তীব্র স্রোতে হুম মাছ একটা আশ্চর্য। জোয়ার ভাটাহীন এই নদীর ঘোলা জলে কালো হুম মাছের লাফিয়ে ওঠা বিকেলের বাড়তি বিনোদন। নদীটা অনেকটা শীতকালের শিশ্নের মতো। ছোট নদীটা দেখতে বড় খাল। অথচ দুই পাড়ে শক্ত বাঁধ। বর্ষায় এই নদীর কাম জাগে। এখন আর জাগে না। নদীটার সুন্নতে খৎনা করতে গিয়ে শিশ্নের মাথা ফেলে দেওয়া হয়েছে। কেরামত শেখ হুম মাছের একটা গল্প জানে: ননদ আর বউদি একসঙ্গে নাইতে গিয়েছে। দু’জনই নদীতে নামে-সাঁতার কাটে, ডুব দেয়, গান গায়, মাছ ধরে। একজন আরেক জনের পিঠ ঘষে দেয়। তারা এই কথা, সেই কথা বলে। বউটা বলে, ‘আমি জাদু জানি’। ননদ বলে, ‘তুমি আমারে আগে কইবা না। তোমার জাদু দেখাও’। বউটি বলে, ‘অন্য একদিন দেখামু’। পরের দিন বউটি তার সঙ্গে করে একটি বোতল নিয়ে আসে। আদরের ননদকে বলে, ‘তুই পাড়ে বইসা থাক। আমি কালো মাছ হইয়া নদীতে সাঁতার কাটব। জলের উপরে ডিগবাজি খাব। পাড়ে উঠলে তুই আমার গায়ে বোতলের জল ছিটাইয়া দিবি। আমি আবার মানুষ হইয়া যামু। খবরদার বোতলের জল ফালাইস না। তাইলে আমি আর কোনো দিন মানুষ হইতে পারতাম না’। ননদ বলে, ‘বউদি, তুমি কোনো চিন্তা কইরো না। আমি ঠিক সময় তোমার গায়ে জল ছিটাইয়া দেব’। সুতনুকা যুবতি বউটি একে-একে তার গায়ের সমস্ত কাপড় খোলে। পলকের মধ্যে নদী পাড়ের রং বদলে যায়। যুবতি বউটার নগ্ন পবিত্রতায় আকাশের রঙও খানিকটা বদলায়। হয়তো নদীর কাম জাগে। বউটা নদীতে সাঁতার কাটে, ডিগবাজি খায়। বউদির শারীরিক কসরত দেখে ননদ বেশ আনন্দিত। হুম মাছটা অথবা বউটা পাড়ে উঠে পুনরায় মানুষ হতে যায়। সেই সময় ননদের পায়ের সঙ্গে আলতো ধাক্কা লেগে বোতলের জল গোমতীর প্রবাহে মিশে যায়। সেদিনের পর থেকে যুবতি বউটি চিরতরে হুম মাছ।



শ্র্যোডিংগারের বিড়াল


চোখ সংক্ষিপ্ত বস্ত্রখণ্ডে এক আজন্ম বিড়াল। ঘটনার সাল মনে নেই। মামার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি, থাকতে দিয়েছে প্রতিবেশীর ঘরে। রাতে ঘুম আসছে না। বিছানার পাশে আলনা। কোনো এক কারণে আলনার সদর আমার জানা ছিল। হাত দিতেই এক সারি ব্রা। অন্ধকারে রঙ দেখা যায় না। একটা একটা ব্রা ছুঁইছিলাম। আর কল্পনা করছিলাম। অদ্ভুত সুন্দর দুটি চোখ। আর গন্ধ শুঁকছিলাম। ঘামের গন্ধ ছিল না। শরীর ধোয়া গন্ধ সাবানের গন্ধের সঙ্গে মিশে আমাকে সারারাত জাগিয়ে রাখে। সেদিন স্পর্শের সঙ্গে গন্ধ মিলিয়ে। অপরূপ সব চিত্র এঁকেছিলাম। সকালবেলা মেয়েটা যখন নাস্তা খেতে আসে, তখন চিত্রের সঙ্গে মিল না-দেখে মনে পড়ে সেই বিড়ালটাকে। বাবা এনেছিল। ঘরে ইঁদুরের উপদ্রব। বিড়ালটা প্রাচীন একটা শব্দ তুলে আমাদেরকে জাগিয়ে রাখতো। দুধ চুরি করে ছানাটাকে দিতাম। সে খেত না। মাছের কাটা দিতাম। চুকচুক শব্দ করে খেত। বার্ষিক পরীক্ষায় ফেল ক’রে, বিড়াল ছানাটাকে এক টানে বড় করে ফেলি। সে মাছ চুরি করা শেখে। মা তার আচরণে রীতিমত বিক্ষুব্ধ। বাবা অফিস থেকে এলে টুসির নামে মা নালিশ দিত। বাবা বিড়ালটারও অভিভাবক। মা বাবাকে বলতো, ‘তোমার বিড়াল এতদিনে একটা ইঁদুরও মারতে পারেনি’ আমরাও মার কথায় মাথা নাড়তাম। বিড়ালটা শিকারের জন্য উপযুক্ত হয়নি। বিড়াল আর ইঁদুরের দৌড়-খেলায় বিড়াল একবেলার খাবারের জন্য দৌড়ায়। আর ইঁদুরটা জীবন বাঁচানোর জন্য দৌড়ায়। ইঁদুরটা হেরে গেলে জীবন শেষ। শিক্ষানবিশ টুসি মার বকা খেত। বিড়ালের কথা মনে পড়ছে কেন?


মামা বাসর ঘরে ঢুকেছে। বিয়ের রাতে বিড়াল মারতে হয় কেন? আমার এক ফুফু আছে, যার সঙ্গে ছোটবেলা চড়ুইবাতি খেলতাম। ওই খেলায় কারও কারও দুধেল গাই হতে হয়। একবার আমি গাই হয়েছিলাম। আমার ফুফু গোয়ালা। সে দুধ দোহন করতে এসে আমার অংশটাকে গাভীর বাট মনে করেছিল।

সমাপ্ত