ঐশ্বরিয়া রাই, কারিনা কাপুর বা সানি লিয়নকে কমোডে বসে হাগতে দেখলে বা ওদের মলদ্বার দিয়ে ফরাৎ ফরাৎ করে বেরিয়ে আসা সূর্যমুখীর হলুদের মতো গু দেখলে বা কোষ্ঠকাঠিন্য থাকার ফলে ঐ সূর্যমুখী হলুদের সাথে কয়েকবিন্দু রক্ত লেগে থাকা দেখলে কিংবা কমোডে বসে ওদের ছ্যার ছ্যার করে মোতার শব্দ শুনে কান ঝালাপালা হয়ে যাওয়ার পরেও টিভির পর্দায় ঐশ্বরিয়া রাই, কারিনা কাপুর বা সানি লিয়নের গতর সর্বস্ব নাচানাচি দেখেও যে কারো পুরুষাস্ত্রের স্যালুট দিয়ে ওঠা সম্ভব?-এমন প্রশ্নবান পরিতোষ আমার দিকে ছুঁড়ে দিলে আমার প্রথমেই মনে পড়ে যায়-মোহিনী মোহন স্ট্রিটের ৭২/বি নম্বর ভাড়ার ফ্ল্যাট;-যেখানে রমাকে বিয়ে করে সংসার বিছিয়েছিল পরিতোষ; সেই ফ্ল্যাটের এক নির্জন বৃষ্টির দুপুর আমাকে ঢুকিয়ে দিয়েছিল আলকাতরায় ভরে থাকা প্রাচীন এক ইঁদারার ভেতর।
বৃষ্টির দুপুরে নির্জন ফ্ল্যাটে আমি একা। পরিতোষ সকাল সকাল বেরিয়ে গেছে ব্যবসার কাজে। বাপের বাড়িতে রমা। বেশ কিছুদিন হলো। সদ্য বিবাহিত আমি, বউকে ফেলে বন্ধুর সঙ্গে সময়কে পথ ভুলিয়ে দিয়ে আষাঢ়ের অনেক অনেক গল্প শেষ শ্রাবণে করব বলে পরিতোষের ফ্ল্যাটে। পরিতোষ ব্যবসায়, রমা মায়ের বাড়ি, ফ্ল্যাটের কিউবিক নির্জনে একা আমি ডাইনিং টেবিলে রাখা ব্ল্যাক লেবেলের বোতলের দিকে তাকিয়ে আসন্ন রাতে কাজ সেরে বাসায় ফিরলে পরিতোষের সঙ্গের যে প্রকার খোশআমোদে মেতে উঠব তার কিছু খসড়া মাথায় কিলবিলাচ্ছিল। ক্যাটস অ্যান্ড ডগসের এই একলা দিন-পরিতোষের ল্যাপটপে ইন্টারনেট যোগ করে নিয়ে নীল পৃথিবীর মধ্যে ঢুকে পড়ে চুবানি খেয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বেরিয়ে আসি। তারপর ল্যাপটপের ড্রাইভে ড্রাইভে পরিতোষের জমিয়ে রাখা দেশি-বিদেশি নানা সিনেমার সম্ভারে ঢুকে পড়ি। চলচ্চিত্রকার হওয়ার সকল স্বপ্ন ব্যবসার উত্তরোত্তর সাফল্যের ভেতরে চুবানি খেলেও চলচ্চিত্র দেখার ভূত এখনও পরিতোষকে ছেড়ে যায়নি। ত্রুফো নামের ফোল্ডারে মাউস টিপে ঢুকতেই আমার চোখের সামনে আর এক নীলের দরজা হা হয়ে যায়-পরিতোষ আর রমার অজস্র নগ্ন ছবি-চুম্বন, লেহন, সঙ্গমের;-প্রথমে পলক সরিয়ে নিই। কিন্তু আমাকে টানে-গন্ধম। আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি-খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে রমার শরীরের উপত্যকা। দেখে দেখে আমার ভেতরের উদগীরিত লাভায় আমি জ্বলে যেতে থাকি। সদ্য বিয়ে করা আমার স্ত্রী তোতনের মোবাইলে রিং দিয়ে গড়গড় করে সব বলে দিই। তোতন অমাকে ধিক্কার দেয়। বলে-ছিঃ, বন্ধু, বন্ধুর বৌ-কীভাবে দেখছ ওইসব। কিন্তু ততক্ষণে আমার শরীর আমার হাতছাড়া হয়ে গেছে। আমার গরম লাভা ইথারের ভেতর দিয়ে তোতনের কানের ভেতরে গল গল করে গড়িয়ে দিতে থাকি। তোতন আমার বিশ্রি রিপুতাড়নাকে সামাল দিতে না পেরে উপর্যুপরি আমাকে চলভাষে সঙ্গ দেয়। আমি রমার বেডরুমের আলনার পেছন থেকে রমার ব্যবহৃত একটা ব্রা বের করে এনে তার ভেতরে নিজেকে গড়িয়ে দিই। রমা আর পরিতোষের ব্যবহৃত খাটের ওপরে আমি ক্লান্ত-কেলিয়ে পড়ি। ডানাভাঙা পাখির মতো রমার লালটুকটুকে ব্রা পড়ে আছে মোজাইক করা মেঝেতে-পড়ে থাকা ব্রাতে এখন আর রমা কিংবা তোতনের কোনো ছবি নেই। এখন কেবলই একটা কাপড়ের ঠুকরো; আমার স্বেদরক্ত মেখে আহত হয়ে আছে।
সেদিনের পর থেকে যে কয়েকবার রমাকে আমি দেখেছি-তার লাবণ্য, তার মাধুর্য, পাটভাঙা টাঙ্গাইল শাড়ি পরার নিপুণ কৌশল, তার গলায় বিকেল বেলার শান্ত পাহাড়ি নদীর মতো খেলে যাওয়া রবীন্দ্রসংগীত, বাহু-কোমর-পায়ের গোড়ালিতে লেগে থাকা ভরতনাট্যমের ছন্দ আমার কাছে ম্লান হয়ে যায়। আমার কাছে অতি সাধারণ একজন নারী হয়ে ওঠে রমা। অথচ পরিতোষ যখন ওর সঙ্গে প্রেম করত, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিন দুপুরে হারিয়ে যেত-আমরা চা গিলতে গিলতে রমাকে নিয়ে নানা রগড় করেছি তখন। সেইসব এখন মেঘলা রাতের মাঝবয়সী পূর্ণিমার মতো ঘোলাটে আমার চোখে। এখন আর বিশেষ করে রমার কোনো আভা আমার সামনে খেলে ওঠে না।
মাত্র চল্লিশ মিনিট ড্রাইভ করে পরিতোষ আমাকে তার বাগানবাড়ির দোতলার ঝুল বারান্দায় এনে ফেললে আমরা আমাদের বিগত যৌনজীবনের নানা স্মৃতি রোমন্থনে ভাসতে থাকি। আট বছর আগের কোনো একদিনে এই বাগানবাড়ির ছাদের ওপরে আতপ্ত জ্যোৎস্নায় কোনো এক নারীর সঙ্গের মিথুন উৎসবের গল্প বলতে থাকে পরিতোষ; আমি অবলীলায় পরিতোষের পাশে রমাকেই দাঁড় করিয়ে ভাবতে থাকি। রমা না হয়ে অন্য কেউ হওয়াও বেসম্ভব কিছু নয় পরিতোষের জন্যে। যেহেতু আমি পরিতোষের বগলজাত অবস্থায় রমাকেই দেখেছি কেবল-তাই পরিতোষের ল্যাপটপের সেইসব আট বছর আগের রমা আমার সামনে। পরিতোষকে ভিমরি খাইয়ে আমার জিহ্বাচ্যুত হয়ে একটা প্রশ্ন তার কানে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে-রমাকে ডিভোর্স দিয়ে দিলে শেষ পর্যন্ত। অথচ ওকে বিয়ে করেই তুমি বাড়ি ছাড়লে। সম্পত্তি। পরিবার।
-শেষমেষ ছাড়তেই হলো, জানো তো। হলো না বা আমিই পারলাম না। আসলে অফিসের সহকারী রানিতার সঙ্গে আমাকে বিছানায় দেখে ফেলল রমা। তারপর কিছুতেই আর সহজ হলো না। আমিও রানিতাকে বিয়ে করে ফেললাম।
-তোমার মেয়ে?
-অরুনিতা মায়ের সঙ্গেই আছে। ইস্কাটনের ফ্ল্যাটটা রমাকে লিখে দিয়েছি। মাসে ত্রিশ হাজার। মা মেয়ের জন্যে। ওভার অল আই অ্যাম এ গুড হাসব্যান্ড অ্যান্ড এ গুড ফাদার। অরুনিতার শরীর খারাপ, জ্বর। ফেরার পথে আজ একবার দেখে যেতে হবে। তুমিও চলো।
লিফটের পেটের ভেতর থেকে বেরিয়ে তমার ফ্ল্যাটের সামনে আমরা। পরিতোষের তর্জনীর চাপে কলিংবেল। গোলাপি স্কার্ট আর হলুদ টি-শার্টে চমশা চোখে বিবর্ণ-ফ্যাকাশে রমা-বেশ কয়েক বছর পরে দেখলাম। আমাকে সঙ্গে দেখে তমার বিশেষ কোনো প্রকাশ নেই। স্বাভাবিক, খুবই স্বাভাবিক ও মৃদু বলল-এসো। সোফায় বসলাম। পরিতোষ ঢুকে গেল ভেতরের ঘরে। মুখোমুখি সোফায় রমা। সম্ভবত অরুনিতার ঘরে পরিতোষ; বাবা মেয়ের কথোপকথন ভেসে আসছে। রমার দিকে আমি; কিন্তু দৃষ্টি নিম্নমুখী, টাইলসের দিকে। খুবই সামান্য একটা দুটো কথা।
আমি বাসায় ফিরে ফেসবুক অন করতেই রমার বন্ধুত্বের ডাক এসে ঝুলে আছে, দেখলাম। রমার নানা ছবি নানা পোস্ট ভেসে থাকে ফেসবুকে। স্বয়ংক্রিয় সেই সব আমার চোখের সামনে ভিড় করে। একদিন আমার ইনবক্সে রমার একটি ইউটিউব চ্যানেলের লিংক- সেখানে রমা নানা কাণ্ডকীর্তি করে। কাঁদে, অভিনয় করে, গান গায়, রান্না করে, রূপচর্চা করে, ক্যাটওয়াক করে, গপাগপ খায়, শুয়ে থাকে, বিষণ্ন থাকে, আনন্দে থাকে-শুধু বাথরুমে বসে হাগা-মোতার ছবিটুকু বাদে সবকিছুই। এইসব হিল্লিদিল্লি দেখে আমি নিশ্চিত হয়ে যাই-রমা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু ফেসবুকে রমার প্রোফাইল পিকচার দেখে আমি আশ্চর্য হই-দিনের বেলায় দেখে আসা বিবর্ণ, আভাহীন রমার মিইয়ে যাওয়া মুখটা প্রোফাইল পিকচারের সঙ্গে মেলানোই যাচ্ছে না। অতি অপূর্ব; সাক্ষাৎ টেলিভিশনের কোনো অ্যাংকরের মতো কলকল করে আছে। আমি রমার অ্যালবামে হুমড়ি খাই। ডিভোর্সড রমা, একা রমা, বিষণ্ন রমাকে কোথাও খুঁজে পাই না। অ্যালবামে লাস্যময়ী অজস্র রমা আর ফেসবুকের দেয়ালে রমার সেইসব ঝুলিয়ে রাখা ছবির নিচে অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রশংসা বাণ তীব্র শরের মতো শাবকের কচি মাংসের দিকে। তীব্র পুরুষেরা কেউ কেউ রমার একা থাকার গল্পটা জানে বলেই নানা ফাঁদ পেতে বসার মন্ত্র আওড়ে দিয়েছে মন্তব্যের ঘরে। সেইসব দেখে বড্ড গা ঘিন ঘিন করে আমার। আমি আর বেশিক্ষণ থাকতে পারি না রমার ভার্চুয়াল পৃথিবীতে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাইরোডের পাশের খাদে পড়ে যাওয়া মোটরগাড়ির মতো বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে থাকি।
কিন্তু কতক্ষণ; ফেসবুক খুললেই রমার ইউটিউব চ্যানেলের নানা পোস্ট ভেসে আসে আমার ওয়ালে। রমা আলুর সঙ্গে ময়দা মিশিয়ে লুচি বানানোর রেসিপি দেখাচ্ছে ভিডিওতে, মুগডালে রুইমাছের মাথা, ত্রিশ দিনে কীভাবে পেটের মেদ কমানো যায়-নানা যোগব্যায়াম করে দেখাচ্ছে, গ্রীষ্মের দাবদাহে সূর্যের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্যে মুখে কী ফাউন্ডেশন করতে হবে-মেখে দেখাচ্ছে, ছত্রিশতম জন্মদিনে রমা নিজেকে নিজেই ট্রিট দিচ্ছে কেএফসির নির্জন এক টেবিলে বসে, রাতের নাইটি পরে রমা ইজি চেয়ারে বসে কফি খাচ্ছে আর ওর শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁটে গুঁড়ি গুঁড়ি রবীন্দ্রসংগীতের আবহ; রমা একা-একলা রমা ভোর রাত অব্দি ইউটিউব চ্যানেলে বক বক করে যাচ্ছে; আমি দেখি। দেখি একা থাকতে থাকতে রমা নিজেও একটা বিরাট পৃথিবী গড়ে তুলেছে। সেখানে কয়েক হাজার ফলোয়ারস, ভিউয়ারস। প্রশংসা প্রশংসায় ফেসবুকের দেয়াল স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে।
একদিন এক শ্রাবণের শেষ পূর্ণিমার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আমার রাত ভোর হয়ে যাচ্ছিল। বারান্দার ইজি চেয়ারে সময় হারিয়ে ফেলা পেন্ডুলামের মতো দুলছিলাম, দুলছিলাম। তখন মোবাইলের স্ক্রিনে তর্জনী ছুঁয়ে আমি ঢুকে পড়ি ফেসবুকের হলহলে দুনিয়ায়। ঢুকতেই সিডরের জলোচ্ছ্বাসের মতো আমার চোখে হুমড়ি খেয়ে পড়ে রমার একটা পোস্ট; তার নিচে নানা মত কলকলাচ্ছে। রমারও পাল্টা মন্তব্য ঝুলে আছে সেখানে। বিগত জ্যোৎস্নার আভা লেগে থাকা সেই রাতে রমার পোস্টটি আমাকে দুর্গম পাহাড়ের চোরাখাদের পেট থেকে তুলে অমল সবুজ সড়কে এনে রাখে। বেশ কিছুকাল ধরে তোতনের সঙ্গে চলিষ্ণু আমার স্নায়ুযুদ্ধ-এই যে বিছানায় তোতনের বালিশের দূরত্ব বেড়ে গেছে আমার বালিশ থেকে, আমি ঘুম থেকে ওঠার আগেই তোতন প্রতিদিন বেরিয়ে যাচ্ছে অফিসে, আমি কাজ সেরে বাসায় ফিরে দেখছি তোতন ঘুমিয়ে পড়েছে-ওর সমস্ত মুখ জুড়ে ক্লান্তি-বিষণ্নতা; তাড়িত লিবিডো নিয়ে ফেসবুকে ছিপ ফেলে বসে থেকেও আমি কোনো মৎস্যকুমারীকে পাই না; কেবল মাস শেষে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছি, ডিপিএস-এ টাকা জমাচ্ছি, পেটে দুম্বার মতো বেড়ে যাওয়া চর্বি নিয়ে টেনশন করছি, অফিসে তাড়াহুড়ো করে যাওয়ার সময় তোতনের এলোমেলো করে রেখে যাওয়া পোশাক গোছাচ্ছি, বাথরুমের বালতিতে শ্বাসরুদ্ধ পড়ে থাকা তোতনের পেন্টি-ব্রা ধুয়ে বারান্দার রশিতে শুকাতে দিচ্ছি;-অথচ বিয়ের আগে ক্যাম্পাসের এক ভ্যাপসা গরমের সন্ধ্যায় তোতনের সাইডব্যাগে আকস্মিক হাত চালিয়ে দিয়ে আমি একটা কাগজের প্যাকেট বের করে আনি আর তার ভেতরে থাকা লাল ব্রাটা আমার পাঁচ আঙুলে উঠে এসে মায়াবী সাপের মতো হিশহিশ করতে থাকে; তোতন আমাকে বলে-ওটা একটা কাপড় মাত্র, ওটা কিছু না; তোতনের বুকের পায়রা দুটোকে তখনও খাঁচাবন্দি করার সুযোগ না পাওয়া নতুন কেনা ব্রাটি নিয়ে আমি পাগলের মতো নাকে মুখে ঘষে ঘষে গন্ধ নিতে থাকি, তোতন হেসে হেসে লুটিয়ে পড়তে থাকে; ব্রাটি যেন তোতনের স্তন হয়ে উঠে আমার হাতের ভেতরে খরগোশের মতো আহ্লাদ করতে থাকে; এত বছর পরে চরম কর্মব্যস্ততায় বাথরুমের বালতিতে ফেলে যাওয়া তোতনের ব্রাতে আমি যখন সাবান ঘষি-তা আমার কাছে অতি সামান্য একটুকরো কাপড় ছাড়া অন্য কোনো মূর্তি রাখে না; ব্রার জল নিঙড়ে বারান্দার রশিতে ঝুলিয়ে দিতে যাই, তখন পাশের ফ্ল্যাটের তরুণী দেখে ফেলে এই দৃশ্য, আমি ছুটে আবার বাথরুমের ভেতরে ঢুকে বিষণ্ন হতে থাকি-দেখি বাথরুমে গড়িয়ে যাওয়া জলের সঙ্গে আমিও পাইপ বেয়ে ড্রেনে পড়ে যাচ্ছি;-রমার পোস্টটি সেখান থেকে ক্রেইন দিয়ে আমাকে টেনে তোলে। রমা লিখেছে-আমি একা থাকি বলে আমার দিকে যৌনক্ষুৎকাতরতা ছুঁড়ে দেবেন? একা থাকাটা আমার কোনো দুর্বলতা নয়। একা থাকাটা আমার প্র্যাকটিস। একা থাকাটা আমার অর্জন। আর আমার এই একা থাকাটা কোনো দুর্ঘটনাও নয়। এটা মহাবিশ্বের আর সমস্ত নক্ষত্রের চলাচলের মতোই স্বাভাবিক। আমার একা থাকা আমার মতোই সুন্দর। একা থাকাটাই আমার উদযাপন। চিয়ার্স...।-আমি আঁতকে উঠি। আমার একাকিত্বেও সামনে দাঁড়ায়। দেখি একটা সুদীর্ঘ নির্জন পথ, মায়াবী অন্ধকারে মোড়ানো। সেই পথে বেরিয়ে পড়ি আমি।
একটি শীর্ণ নদীর জীর্ণ সেতু পার হয়ে নদীটির ডান কাঁধের ওপর দিয়ে আমি হেঁটে যেতে থাকি। দু’পাশে সারি সারি বৃক্ষ। বাবলার বৃন্তচ্যুত হলুদ ফুলেরা পথ আগলে রেখেছে। পাশে অ্যাশশ্যাওড়ার বন। কন্টিকাড়ির ঝোঁপে ঝোঁপে ফুটে আছে বেগুনি ফুলেরা। গাছে গাছে পাখিদের কলতান। যেতে যেতে ঘন জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে পড়ি। মনে হলো-পৃথিবী বয়সী এক অতি বৃদ্ধ মানুষ সময়ের সমস্ত একককে অস্বীকার করে আপন খেয়ালে হেঁটে চলেছেন। আমাদের চোখাচোখি হতেই বললেন-কোথায় চললে?
-এই তো, এই আরকি, ঘুরছি।
-ঘুরে লাভ নেই। লক্ষ্য ঠিক করো কতদূর যাবে। না কোথাও যাবে না।
-যাব। মানে, একা হাঁটতে ভালো লাগে।
-পথ তো একাই হাঁটার। কী নাম তোমার?
-ওয়াসিফ। আপনি?
-আমার নাম আইনাল হক। নাও এবার একটু জলদি হাঁটো। সূর্য ডুবে যাচ্ছে। আলো থাকতে থাকতে রূপনারানের কূলে পৌঁছাতে হবে আমাদের। না হলে শেষ খেয়া হাত ছাড়া হয়ে যাবে। নতুবা এই নিñিদ্র জঙ্গলের আদিম অন্ধকারে রাত।
আমি আর আয়নাল হক হাঁটতে থাকি-একা।



